KOLKATA WEATHER
এক ঝলকে

রাজ্য জুড়ে পূর্ণ লকডাউন, তৎপর পুলিশও

 

দেশ জুড়ে করোনার দাপট বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আনলক ৩ এর প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলার অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় করোনা শৃঙ্খল কিছুটা ভঙ্গ করার জন্য সাপ্তাহিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।শনিবার আগস্ট মাসের দ্বিতীয় দিনের লকডাউন সফল করতে আরও তৎপর হয়েছে রাজ্যের পুলিশ। আগের লকডাউন গুলিও কড়া হাতেই সামলেছিল রাজ্য পুলিশ। এদিনও রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় পুলিশি সক্রিয়তা চোখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: আচমকাই বোমাবাজি মুর্শিদাবাদে

হুগলী জেলার চুঁচুড়া, চন্দন নগর, ভদ্রেশ্বর, চাঁপদানি এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে এদিন সকাল থেকেই চলেছে পুলিশের নাকা তল্লাশি। চন্দন নগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে চন্দন নগর থানার অন্তর্গত জ্যোতির মোড়ে চলে পুলিশের কড়া নজরদারি। জ্যোতির মোড় সংলগ্ন স্বপ্না বাজার এলাকা ছিল জনমানব শূন্য। বন্ধ ছিল সমস্ত দোকানপাট। রাস্তায় বেরোনো প্রতিটি গাড়িকে ধরেই পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। রাস্তায় বেরোনোর যথাযথ কারণ দর্শাতে পারলেই মিলছিল রেহাই। অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বেরোনোর প্রমান মিললেই চলছিল পুলিশি ধরপাকড়।পাশাপাশি ভদ্রেশ্বর থানার অন্তর্গত বাবুবাজার মোড়ে পুলিশের নজরদারি চললেও ভদ্রেশ্বরে লকডাউন ভঙ্গ করে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বেরোনোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। চাঁপদানি, তেলানিপাড়া ফাঁড়ি এবং চন্দন নগর থানা এলাকা থেকেও একই কারণে ক্রমে ১৮ জন, ২৬ জন এবং ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও মোট ৩৯ টি সাইকেল, ৩১ টি বাইক, ও ৭ টি চার চাকা গাড়ি আটক করা হয়।
পুরুলিয়া জেলার ঝালদা, রঘুনাথপুর, মানব বাজার, বলরামপুর এলাকার মানুষ পূর্ণ লকডাউনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই সাড়া দিয়েছে। এদিন পুরুলিয়ার রাস্থাঘাট প্রায় জনহীন ছিল। তবুও, লকডাউন অমান্য করে যারা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত ৩২০ জন। যদিও তাদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। শুধুমাত্র পুরুলিয়া পৌর এলাকায় করোনায় আক্রান্ত ৬০ এর বেশি মানুষ। জেলায় মোট কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে ৭৬ টি। জেলার ২০ টি ব্লকের মধ্যে ৭ টি ব্লকে সমক্রমিতের সংখ্যা সর্বাধিক। এই জেরে ওই এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত লকডাউন করার পরিকল্পনা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
সফল লকডাউনের চিত্র দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও। শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণদিনাজপুরের রাস্তাঘাট ছিল জনমানবশূন্য। খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরোলেই পুলিশের কাছে কারণ দর্শাতে হচ্ছে। কিছু কিছু জরুরি পরিষেবা যেমন- প্রশাসনিক ভবন, ওষুধের দোকান, নার্সিং হোম খোলা রাখা হয়েছে। করোনা রুখতে লকডাউনকে সম্পূর্ণ রূপে মান্যতা দিয়েই জনগণ লকডাউন সফল করে তুলেছে। কিছু কিছু মানুষ যারা বিধি ভঙ্গ করে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তাদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।সব মিলিয়ে সকাল থেকেই বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে লকডাউন পালিত হয়েছে এই জেলায়।
জলপাইগুড়িতে এদিন সকাল থেকেই লকডাউনের চিত্র ছিল ধর্মঘটের মতো। কিছু জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দোকান পাট ছাড়া বাকি সব দোকান বন্ধ ছিল। তবে এরই মধ্যে কিছু মানুষ অকারণে মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। তাদের জন্য পুলিশের তরফে ছিল কড়া দাওয়াই। বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায়ও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোতোয়ালি থানার টহলরত পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে সকলকে। আবার কিছু লোক প্রয়োজনেই বেরিয়েছিলেন, পুলিশ তাদের বোঝানোর মাধ্যমে সচেতন করে ছেড়ে দিয়েছেন।সব মিলিয়ে জেলা গুলিতে শান্তিপূর্ণ ভাবেই লকডাউন মান্যতা পেয়েছে।

মোবাইলে খবরের নোটিফিকেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন - Whatsapp , Facebook Group

আমাদের খবর পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন - Whatsapp
Close
Close