KOLKATA WEATHER
দক্ষিণবঙ্গকলকাতাকলকাতা পুলিশ

বৃদ্ধ মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে,আইসোলেসশনে ফুলবাগান থানার তদন্তকারী পুলিশদল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে আইসোলেসশনে গেল গোটা পুলিশ টিম। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগান থানা এলাকায়। বাড়ির লোকেরা প্রথমে জানাননি যে মৃত বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত। এমনকী, তাঁরাও যে কোভিড পজিটিভ, সে কথাও তদন্তের আগে জানানো হয়নি পুলিশকে। বৃদ্ধের দেহটি উদ্ধারের পর ফুলবাগান থানার পুলিশের একটি টিম বহুতলের আবাসনে তাঁর ফ্ল্যাটে যায়। পরিবারকে কোনরুপ জিজ্ঞাসাবাদ করার আগেই, তিনি কোনও সুইসাইড নোট লিখে রেখেছেন কি না, তা জানার জন্য পুলিশ অফিসাররা পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালান।
প্রসঙ্গত: কলকাতা শহরের নারকেলডাঙা অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল । ১০৮/বি, নারকেলডাঙা মেন রোডের এক অভিজাত আবাসনের সামনে থেকে গত বুধবার সকালে উদ্ধার হয় এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত মৃতদেহ। মৃতের নাম ছিল রামকিশোর কেজরিওয়াল(৭০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। মৃতের পরিবারের সুত্রে জানা যায় , সম্প্রতি তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালের কাছে অভিজাত আবাসন মানিক্লাবে ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে ছিলেন, কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে ফ্ল্যাটের মালিকানা এখনও পাননি। ওই প্রমোটারের সঙ্গে গত কিছুদিন ধরেই ফ্ল্যাটের হস্তান্তর নিয়ে বিবাদ চলছিল । এরপরই আবার গত ২৭ জুলাই ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছিল তাঁদের। গৃহবন্দি হয়ে সম্পূর্ণরূপে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রামকিশোর বাবু। তার জেরেই হয়তো শেষে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরো পড়ুন: থানার ছাদে স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন বড়বাজার থানার

আবাসনের নীচে তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।গত বুধবার সকালে বহুতলের থেকে ঝাপ দিয়ে আত্নঘাতী হন ওই বৃদ্ধ। ঘটনাস্থলে গিয়েছিল ফুলবাগান থানার পুলিশ  ও দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন ডিসি ডেপুটি কমিশনার (ইএসডি) অজয় প্রসাদ। তখন ফুলবাগান থানার পুলিশ  সুত্রে দাবি করা হয়েছিল যে ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে রাত তিনটে নাগাদ লিফটের সন্দেহজনক ভাবে বারবার ওঠানামা দেখা গেছে,আর এই নিয়েই তখন দানা বেঁধেছিল রহস্য। খুন নাকি আত্মহত্যা, খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালায় ফুলবাগান থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বৃদ্ধর জামাকাপড় ও বিছানাপত্র ঘাটা হয়। দেখা হয় তাঁর মোবাইল। যদিও মেলেনি সুইসাইড নোট। কিন্তু এরপর ফুলবাগান থানার পুলিশ অফিসাররা পরিবারের লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই চমকে ওঠেন তদন্তকারি দল। পুরো পরিবারই করোনা  আক্রান্ত।
এই বিষয়টি জানার পর ফুলবাগান থানার সহআধিকারিক প্রীতম প্রামানিক  সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীরা নিজেদের স্যানিটাইজ করেন। আপাতত তারা থানার মধ্যেই আইসোলেশনে রয়েছেন।

মোবাইলে খবরের নোটিফিকেশন পেতে এখানে ক্লিক করুন - Whatsapp , Facebook Group

আমাদের খবর পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন - Whatsapp
Close
Close